ঢাকা , সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬ , ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে পরিদর্শক সংকট; অতিরিক্ত উত্তরপত্র না পাওয়ার অভিযোগ পরিক্ষার্থীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৭-০৬ ০০:০৩:১০
এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে পরিদর্শক সংকট; অতিরিক্ত উত্তরপত্র না পাওয়ার অভিযোগ পরিক্ষার্থীদের এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে পরিদর্শক সংকট; অতিরিক্ত উত্তরপত্র না পাওয়ার অভিযোগ পরিক্ষার্থীদের
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-

কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার চিলমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসিসমমান পরীক্ষার প্রথম দিনে কেন্দ্র পরিচালনায় গুরুতর অব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা বোর্ডের পরিপত্র উপেক্ষার অভিযোগ উঠেছে। পর্যাপ্ত সংখ্যক কক্ষ পরিদর্শক নিয়োগ না দেওয়ায় অতিরিক্ত উত্তরপত্র বিতরণে বিঘ্ন ঘটে। ফলে সময় থাকা সত্ত্বেও অনেক পরীক্ষার্থী সম্পূর্ণ উত্তর লিখতে পারেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনায় এক পরীক্ষার্থী চিলমারী উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। গত ২ জুলাই অনুষ্ঠিত এইচএসসি বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় লিখিত অংশে ৭০ এবং বহুনির্বাচনী অংশে ৩০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেনারেল ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার মোট ৮০০ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের জন্য মোট ১০টি কক্ষে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। কেন্দ্রের কক্ষভিত্তিক উপস্থিতির তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১০১ নম্বর কক্ষে ৩২ জন, ১০২ নম্বর কক্ষে ৩২ জন, ১০৩ নম্বর কক্ষে ৩২ জন, ১০৪ নম্বর কক্ষে ৪৪ জন এবং ১০৫ নম্বর কক্ষে ৯ জন ব্যবসায় শিক্ষা শাখার পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এ ছাড়া ১০৬ নম্বর কক্ষে ৭১ জন, ১০৭ নম্বর কক্ষে ৫৮ জন, ১০৮ নম্বর কক্ষে ৪৬ জন, ১১০ নম্বর কক্ষে ৪৬ জন ও ১১১ নম্বর কক্ষে ১০৫ জন জেনারেল পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র পরিচালনা সংক্রান্ত পরিপত্র অনুযায়ী, প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীবের বিপরীতে একজন কক্ষ পরিদর্শক নিয়োগ বাধ্যতামূলক।


সে অনুযায়ী বিএম শাখার কক্ষ পর্যবেক্ষক ঠিক থাকলেও জেনারেল শাখায় পরীক্ষার পরিপত্র মানা হয়নি। পরীক্ষা পর্যবেক্ষক তালিকায় দেখা যায়, জেনারেল শাখার ১০৬ নম্বর কক্ষে ৭১ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে ৩ জন, ১০৭ নম্বর কক্ষে ৫৮ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে ২ জন, ১০৮ নম্বর কক্ষে ৪৬ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে ২ জন, ১১০ নম্বর কক্ষে ৪৬ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে ২ জন ও ১১১ নম্বর কক্ষে ১০৫ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র ৪ জন কক্ষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কেন্দ্র পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ বোর্ডের এই নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেননি। ফলে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শকরা অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েন এবং প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত উত্তরপত্র সময়মতো সরবরাহ করতে ব্যর্থ হন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কক্ষ পরিদর্শক বলেন, পরিপত্র অনুযায়ী পরীক্ষার্থীর বিপরীতে কক্ষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ না দেওয়ায় অধিক পরীক্ষার্থীকে সামাল দেওয়া বাস্তবিক অর্থেই অসম্ভব।

অতিরিক্ত শিট বিতরণ, উত্তরপত্রে স্বাক্ষর ও সার্বিক তদারকির কারণে আমরা চরম চাপের মধ্যে ছিলাম। জেনারেল শাখার পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মোঃ নুরুল আমিন বলেন, চিলমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, তাই চাহিদা অনুযায়ী কক্ষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া যায়নি। তবে আগামী পরীক্ষায় কোনো সমস্যা হবে না। অবশ্য বিজনেস ম্যানেজমেন্ট (বিএম) কলেজের আবেদনকৃত ১২ জন শিক্ষক কক্ষ পর্যবেক্ষকের তালিকায় থাকলেও অজ্ঞাত কারণে মাত্র ৩ জনকে কক্ষ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ বিষয়ে চিলমারী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মশিউর রহমান বলেন, “এইচএসসি পরীক্ষা একজন শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মোচনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এখানে একটি নম্বরও শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পরীক্ষার সময় কোনো শিক্ষার্থী অতিরিক্ত উত্তরপত্র (লুজ শিট) চাইলে কক্ষ পরিদর্শকের তাৎক্ষণিকভাবে তা সরবরাহ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কক্ষ পরিদর্শকদের জন্য বরাদ্দকৃত সম্মানী সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যেই প্রয়োজনের তুলনায় কমসংখ্যক পরিদর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগের শিকার হয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চিলমারী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব ডঃ মোঃ মজিবল হায়দর চৌধুরী বলেন, নীতিমালা থাকলেও অনেক সময় কেন্দ্রের সুশৃঙ্খলার স্বার্থে অনেক কিছু করতে হয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত উত্তরপত্র নেওয়ার নিয়মকানুন সম্পর্কে অবগত করেছি। আগামী পরীক্ষায় আশা করছি কোনো ত্রুটি থাকবে না। অভিযোগের বিষয়ে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মাহমুদুল হাসান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। কেন্দ্র সচিবের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানা যাবে।


বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা বোর্ডের পরিপত্র অনুযায়ী কেন্দ্র পরিচালনা করা বাধ্যতামূলক। কোনো কেন্দ্রে নির্দেশনা অনুসরণ না করার অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ